Breaking News

যেভাবে পদ্মার মতো গভীর নদীতে সেতুর পিলার বসানো হয়

পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের আগ্রহের শেষ নেই। যমুনা সেতু নিয়েও সবার সমান আগ্রহ ছিল। একেকটি সেতু কেবল একেকটি জনপদকেই যুক্ত করে না; সহজ করে জীবনকে, বাঁচিয়ে দেয় মহামূল্যবান সময়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংযুক্তির ব্যাপার তো থাকছেই।

কিন্তু কীভাবে সেতুর পিলারগুলো নদীর বুকে স্থাপন করা হয়? এই প্রশ্ন অনেকেরই মাথায় ঘুরপাক খায়। ভূমিতে যেকোনো পিলার স্থাপন করা তুলনামূলক সহজ কাজ। কিন্তু পানির মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করার ক্ষেত্রে একটি অস্থায়ী বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ভাষায় তা ‘কফার ড্যাম’ নামেই পরিচিত। তবে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষই এ শব্দটির সঙ্গে অপরিচিত।

জানতে হবে কফার ড্যাম সম্পর্কে
নদীর বুকে সেতু বা যেকোনো স্থাপনার পিলার বসানো সম্পর্কে জানতে হলে কফার ড্যাম সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। কফার ড্যাম হল এক ধরনের অস্থায়ী বেস্টনী; যা নদী, হ্রদ ইত্যাদি এলাকায় নির্মাণ চলাকালে পানি প্রবেশে বাধা দেয়। এসময় কিছু পানি কফার ড্যামের মধ্য দিয়ে ছুঁয়ে ভেতরে প্রবেশ করে, যা সহজে পাম্প করে নিষ্কাশন করা যায়। মূলত নির্মাণ এলাকা শুষ্ক রাখার জন্য কফার ড্যাম স্থাপন করা হয়।

কফার ড্যামের দেয়ালগুলাে পানি নিরােধক হয়ে থাকে। নির্মাণ কাজের প্রকারের ওপর নির্ভর করে কফার ড্যামের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। গভীরতা, মাটির অবস্থা, পানির স্তরের ওঠানামা, মালামালের পর্যাপ্ততা ইত্যাদির ওপর নির্মাণ কাজের প্রকার নির্ভর করে। কফার ড্যাম মাটির, কাঠের অথবা স্টীল শিট পাইলের অথবা মিশ্রিতভাবে তৈরি করা হয়ে থাকে।

বেশ কিছু উদ্দেশ্যে কফার ড্যাম ব্যবহার করা হয়; যেমন—
* বেষ্টনীর মধ্যে পানি প্রবেশকে বাধা দেয়ার জন্য।
* পানির মধ্যে ভিত্তি স্থাপন করতে শ্রমিকদের কাজ করার জন্য প্লাটফর্ম প্রদান করতে।
* প্রতিক্রিয়া ছাড়াই সন্নিহিত কাঠামােকে মুক্ত রেখে ভিত্তির জন্য জায়গা প্রদান করে।

* পাইল বসানাের সুবিধা প্রদান করে।
* ব্ল্যাট এবং গ্রিলেজ ভিত্তি স্থাপনে সাহায্য করে।
* কংক্রিট ড্যামের ভিত্তির এবং সুপারস্ট্রাকচারের কাজ সম্পাদন করতে সাহায্য করে।
* ব্রিজের অ্যাবাটমেন্ট এবং পায়ারের জন্য ভিত্তি নির্মাণে সুবিধা প্রদান করে।

কফার ড্যাম হল এক ধরনের অস্থায়ী বেস্টনী। ছবি: সংগৃহীত
কফার ড্যাম হল এক ধরনের অস্থায়ী বেস্টনী। ছবি: সংগৃহীত
কফার ড্যামের প্রকারভেদ
যেখানে কফার ড্যাম স্থাপন করা হয় সেখানে প্রথমে ড্রেজিং করে ওই স্থানের কাদা সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর পাইল সেটআপ করতে হয়।

সর্বোপরি পাম্পিং করে কফার ড্যামের ভেতরের পানি নিষ্কাশন করা হয় এবং বাইরে থেকে যেন পানি চুইয়ে না আসে তা নিশ্চিত করা হয়। তারপর স্ট্রাকচার বা পিলার তৈরির কাজ শুরু করা হয়। কাজ শেষে সাবধানে কফার ড্যামটি খুলে নেয়া হয়।

কফার ড্যাম বিভিন্ন রকমের মালামাল (যেমন- সিট ফাইলস, স্টীলস) ব্যবহার করে বানানো হয়। মালামাল ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে কফার ড্যাম বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে, যেমন—
* মাটির কফার ড্যাম
* রক-ফিল কফার ড্যাম
* স্যান্ড ব্যাগ কফার ড্যাম

* সিংগেল ওয়াল কফার ড্যাম
* ডাবল ওয়াল কফার ড্যাম
* রক-ফিল ক্রিব কফার ড্যাম
* কংক্রিট কফার ড্যাম
*সেলুলার কফার ড্যাম
* ক্যান্টিলিভার শিট পাইল কফার ড্যাম

* ব্রেইসড কফার ড্যাম
* সাসপেন্ডেড কফার ড্যাম
মাটির কফার ড্যাম সবচেয়ে সাধারণ এবং পরিচিত। যেখানে পানির গভীরতা প্রায় ২ মিটার এবং প্রবাহের বেগ কম, সেখানে মাটির কফার ড্যাম ব্যবহার করা হয়।

About Utsho

Check Also

যাদের শরীরে এই ৪টি চিহ্ন আছে, তারা ভবিষ্যতে কোটিপতি হবেই!

মানুষের দেহের প্রত্যেকটি অঙ্গের নিজের নিজের কিছু গুরুত্ব রয়েছে। এটি স’ম্পর্কেই আজকের আলোচনা। বর্তমান সময়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.