Breaking News

ধুনটে ‘বউ মেলা’ অনুষ্ঠিত

প্রতীমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শারদীয় দুর্গা উৎসবের সমাপনী হয়ে থাকে। একারণেই বিজর্সনের দিন দুপুরের পর থেকেই মন্ডপগুলোতে বাজতে থাকে বিদায়ী সানায়ের সুর। উৎসবের সমাপনী এ সুর যেন হৃদয়কে বিষাদময় করে তোলে।

এমন করুণ সুরেও রঙিন হয়ে ওঠে বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকার ইছামতি নদী তীরের সরকার পাড়া গ্রাম। প্রতীমা বিসর্জন ঘিরে এ গ্রামে জমে ওঠে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির মেলা। স্থানীয় ভাবে ‘বউ মেলা’ নামে পরিচিত এ মেলা প্রকৃত অর্থে হিন্দু-মুসলমানের ভ্রাতৃত্ববোধের প্রকাশ ঘটায়।

সরকার পাড়া গ্রামের ৬৮ বছর যাবত শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করেন গ্রামবাসী। গ্রামের মন্দিরে পাশেই রয়েছে ইছামতি নদী। ধুনট পৌর এলাকার সরকারপাড়া, দাসপাড়া, ধুনট সদর, কলেজপাড়াসহ কয়েকটি

পূজা মন্ডপের প্রতীমা সরকারপাড়ায় ইছামতি নদীতে বিসর্জন দেওয়া। প্রতীমা বিসর্জন ঘিরে ইছামতির তীরে হরেক রকমের দোকানীরা পণ্যের পসরা সাজায়। ধীরে ধীরে প্রতিমা বিসর্জন এবং দোকানগুলো ঘিরে মেলা বসতে শুরু করে।

প্রতিমা বিসর্জন বেলার এ মেলাকে ঘিরে প্রতি বছর হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। যার কারনে গ্রামবাসী মেলায় শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি সিদ্ধান্ত নেন।

দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলার মূল অংশে পুরুষদের প্রবেশ নিষেধ। শুধুমাত্র নারীদের জন্য মেলাটি সুরক্ষিত করা হয়। আর এখান থেকেই এ মেলা ‘বউ মেলা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

সরকারপাড়া গ্রামের পূজা উদযাপনের জন্য প্রতি বছরই একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির লোকজন পূজা পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন। ওই কমিটির অধীনে ‘বউ মেলা’ পরিচালনার জন্য পৃথক একটি স্বেচ্ছাসেবক কমিটি করা হয়।

সরকারপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের হিন্দু-মুসলমান পুরুষদের সমন্বয়ে স্বেচ্ছাসেবক কমিটি হয়। স্বেচ্ছাসেবকরা মেলার মূল অংশে পুরুষদের প্রবেশ পথ বন্ধ রাখেন।

মেলায় নারীরা অবাধে কেনাকাটার সুযোগ পাওয়ায় প্রতিবছর এ মেলায় নারী দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়ছে। তবে এবছর করোনা পরিস্থিতির কারনে মেলায় দোকানের সংখ্যা অনেক কমেছে। তবে কমেনি দর্শনার্থীদের সমাগম।

মেলায় আসা আলেয়া খাতুন, সীমা রানী, মুঞ্জুরী, পূর্ণিমা জানান, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের জীবন যাত্রা স্বাভাবিক। সরকারপাড়া মেলা ঐতিহ্যবাহী একটি মেলা।

প্রতিবছর এই দিনে মেলায় আসা, কেনাকাটা করা, আনন্দ করার জন্য অপেক্ষায় থাকি। যার কারনে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও মেলায় এসেছি। এবছর মেলায় দোকানের সংখ্যা অনেক কম। তবে মেলায় এসে আনন্দের কোন কমতি হয়নি।

সরকারপাড়া গ্রামের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুধীর সরকার বলেন, প্রতি বছরই প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হয়। এখানে সব ধর্মের মানুষের সমাগম ঘটে। ঐতিহ্য বজায় রেখে এবারও বউ মেলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

Check Also

হাতির পিঠে যোগাসন, প’ড়ে গিয়ে মা’রাত্মক আ’হত রামদেব (ভিডিও)

উপমহাদেশের প্রখ্যাত যোগগুরু বাবা রামদেব হাতির পিঠে যোগ আসনে বসেছিলেন। আসনরত অবস্থায় একপর্যায়ে তিনি মাটিতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *